নারীকে পুরুষের পাশাপাশি উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসতে শিক্ষা সংস্কৃতিসহ সকল কর্মকাণ্ডে নারীর অবাধ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এই নিরেট সত্যটি উপলব্ধি করতে পেরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কিছু সাদা মনের মানুষের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় জেলা সদরের হাসপাতাল রোড সংলগ্ন প্রায় ২ একর ৮০ শতাংশ ভূমির উপর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজটি স্থাপিত হয়। ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ কলেজটি স্থাপিত হয়। ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ কলেজটি অনেক চড়াই-উৎড়াই পেরিয়ে প্রায় অর্ধ শতাব্দী বছর পার করেছে। সুদীর্ঘ এ সময়ে মহাবিদ্যালয়টি নানা পরিবর্তন, পরিবর্ধনের মধ্যদিয়ে ভৌত অবকাঠামোসহ সকল ক্ষেত্রে অনেক উৎকর্ষতা লাভ করেছে। জেলার একমাত্র মহিলা কলেজটির জন্মলগ্ন থেকে প্রতিটি পদক্ষেপের সাথে ছড়িয়ে আছে নানা ইতিহাস।
১৯৬৩ সালের ৩১ শে অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমার প্রশাসক হয়ে আসেন জনাব এম এম নূর-উন-নবী চৌধুরী। মেয়েদের উচ্চ শিক্ষার জন্য একটা স্বতন্ত্র কলেজ করার শুভবুদ্ধি এলো তাঁর মাথায়। পরবর্তীতে শহরের গণ্যমান্য সুধী বুদ্ধিজীবীদের সাথে টাউন হলে এক সভা আহবান করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কর্মযোগী দানবীর, নিরলস সমাজসেবী স্বর্গীয় বাবু নিত্যানন্দ পাল (নিতাই পাল খ্যাত) মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠার শুভ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে কলেজ ফান্ডে দশ হাজার টাকা দান করে নিজ দায়িত্বে কলেজ প্রতিষ্ঠার শপথ নিয়ে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। শুরু হলো পুরো উদ্যোমে কলেজ গড়ার কাজ। তৎকালীন মহকুমা হাসপাতালের সামনে প্রবীন আইনজীবী গিরিজা প্রসন্ন দেবগুপ্ত ও মিসেস আসিয়া আজিজের বাড়ি দুটো কিনে নেয়া হল কলেজের জন্য। ১৯৬৪ সালের ১৬ই আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজের বাংলার অধ্যাপক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক প্রয়াত মিন্নাত আলীকে অধ্যক্ষ নিয়োগ করে ১৯৬৪-৬৫ শিক্ষাবর্ষ হতে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা হয়। অর্গানাইজিং কমিটির পরামর্শক্রমে স্থানীয় মডেল গার্লস হাই স্কুলে মর্নিং শিফটের মাধ্যমে পাঁচ জন খণ্ডকালীন শিক্ষক দ্বারা বিশ জন ছাত্রী নিয়ে ক্লাস শুরু হয়। ১৯৬৫ সালের ২৯ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহিলা কলেজের নিজস্ব ক্যাম্পাসের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক জনাব এম আহমেদ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আরেকজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজকর্মী গাজিউর রহমান কে নিয়ে নিতাই পাল পরিচালনা করেন মেয়েদের আবাসিক ব্যবস্থায় শিক্ষা গ্রহণের উদ্যোগ।
আজকের আসিয়া হোস্টেলের সাথে জড়িয়ে আছে আরও একজন মহৎ লোকের কাহিনী। জনাব মো. আবদুল্লাহ (মগীর) তাঁর নিজের নাম গোপন করে বোন আসিয়ার নামে একটি ছাত্রীনিবাস প্রতিষ্ঠাকালে বিশ হাজার টাকা দান করেন। এভাবে কলেজটি যখন স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি কলেজ রূপে প্রতিষ্ঠিত হয় তখন এর অন্যতম উদ্যোক্তা, কর্মবীর নিতাই পাল ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭০ সালে ইহলোক ত্যাগ করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে নতুন উদ্যোমে ১৯৭২-৭৩ সেশন হতে বিজ্ঞান বিভাগ চালু হয়। অধ্যক্ষ মিন্নাত আলীর তত্ত্বাবধানে শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্ঠায় উচ্চ মাধ্যমিক ও বি এ পরীক্ষার ফলাফল, শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় দেশজোড়া সুনাম কুড়িয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এরই ফলশ্রুতিতে কলেজটি সরকারের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অর্ন্তভূক্ত হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালের ১ নভেম্বর কলেজটিকে সরকারিকরণ করা হয়।